
প্রাথমিকে নিয়োগপ্রত্যাশীদের আন্দোলন
পুলিশের লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার
- আপলোড সময় : ১৭-০২-২০২৫ ০৩:০৬:৩৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-০২-২০২৫ ০৩:০৬:৩৮ অপরাহ্ন


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের মহাসমাবেশ শেষে সচিবালয়মুখী পদযাত্রা কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। তাদের ওপর ফের জলকামান দিয়ে পানি ছিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় পুরুষ প্রার্থীদের লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এতে পুরুষ প্রার্থীরা সেখান থেকে সরে গেলেও রাস্তায় বসে বিক্ষোভ করে নারী প্রার্থীরা। গতকাল রোববার বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে সচিবালয়মুখী সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে বেলা ১১টায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে তাদের পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ শুরু হয়। বিকেল ৩টার দিকে তারা শাহবাগ থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে হাইকোর্টে মাজার রোডের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। পরে হঠাৎ সচিবালয়ের দিকে রওয়ানা দেন। এ সময় পুলিশ শিক্ষা ভবনের সামনের সড়কে তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে তাদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছিটানো হয়। তবে জলকামানের তীব্র গতির পানির ?মুখেও রাস্তায় শুয়ে পড়েন নারী প্রার্থীরা। পরে পানি ছিটানো বন্ধ করে পুরুষ প্রার্থীদের লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে সেখানে থেকে সরে যান। তবে নারী প্রার্থীরা রাস্তা ছাড়েননি। ফলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। তাৎক্ষণিক তারা হাইকোর্টে এর প্রতিবাদ জানান। এরপর থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৩ সালের বিজ্ঞপ্তি তিনটি ধাপে দেয়া হয়েছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত নিয়োগ কার্যক্রম এবং অপেক্ষমাণ তালিকা থেকেও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত নিয়োগ নিয়ে টালবাহানা চলছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের প্রার্থীদের নিয়োগ শেষে যোগদান করানো হয়েছে। তৃতীয় ধাপে এসে নতুন নিয়মের দোহাই দিয়ে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
জানা যায়, সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা অনুসরণ করার অভিযোগে উত্তীর্ণদের ফলাফল প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিয়োগবঞ্চিত ৩০ প্রার্থী হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৯ নভেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন। আদালত তার আদেশে এ নিয়োগের কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। এছাড়া রুলে ৩১ অক্টোবর ফলাফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ বিষয়ে ১১ নভেম্বরের নির্দেশনা সংবলিত স্মারক কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। সে রুলের শুনানি শেষে ৬ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ